একালের হারকিউলিস: কোথায় পাব তাকে?

হারকিউলিয়ান টাস্ক শব্দগুচ্ছটির সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত। কোনো কাজ প্রায় অসম্ভব মনে হলে আমরা মাঝে মধ্যে ইংরেজি-বাংলা মিশিয়ে বলে থাকি: ওরে বাবা এ তো দেখছি হারকিউলিয়ান টাস্ক। বোঝাই যাচ্ছে কথাটির উত্স হারকিউলিসের দেশ গ্রিসে, হাজার হাজার বছর আগে, তারই সময়ে এবং তার সঙ্গেই জড়িত কিংবদন্তির শিকড় বেয়ে।

দেবীদের রানী, দেবরাজ জিউসের স্ত্রী এবং মহাবীর হারকিউলিসের সত্মা হেরা মহাক্ষিপ্ত হয়ে একবার হারকিউলিসের প্রতি এমন রোষাগ্নি বর্ষণ করলেন যে, হারকিউলিস একেবারে উন্মাদ হয়ে গেলেন; যার আবেশে হারকিউলিস তাঁর পুত্র, কন্যা এবং প্রিয় পত্নী মেগরাকে হত্যা করলেন। সংবিত্ ফিরে পেয়ে হারকিউলিস একদিকে শোকে মুহ্যমান, অন্যদিকে পরিবার হত্যার মহাপাপে জর্জরিত। পাপ মোচনের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরে অবশেষে তিনি ডেলফির অ্যাপোলো মন্দিরের দৈবজ্ঞ-পুরোহিত পিথিয়ার শরণাপন্ন হলেন। পিথিয়া তাকে পরামর্শ দিলেন, তাইরিন গিয়ে মাইসিনের রাজা ইউরিসথিয়াসের কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে। রাজার অধীনে ১২ বছর থেকে তার দেয়া সব হুকুম তামিল করতে হবে তাকে। তবেই হবে তার পাপক্ষয়।

হারকিউলিসের কাছে এ পরামর্শ ছিল তিক্ত বড়ি গেলার মতো। কারণ মাইসিনের সিংহাসনের আসল উত্তরাধিকারী ছিলেন তো তিনিই। কিন্তু হেরা ও জিউসের স্বর্গীয় দ্বন্দ্বের পাকচক্রে তাকে তা হারাতে হয়েছে। তাছাড়া শৌর্যবীর্যে তিনি ইউরিসথিয়াসকে তার নখের যোগ্যও মনে করতেন না। এহেন ইউরিসথিয়াসের দাসগিরি করতে হবে নিজের পাপ স্খলনের জন্য! তবে সান্ত্বনা ছিল একটাই, ইউরিসথিয়াসের অভিলাষমতো কাজগুলো সম্পাদন করতে পারলে তিনি অমরত্ব লাভ করবেন। এদিকে ইউরিসথিয়াসও তার চির প্রতিদ্বন্দ্বীকে বাগে পেয়ে বেছে বেছে তার জন্য দশটা কঠিন কাজ জোগাড় করলেন, তার কোনো কোনোটায় মৃত্যুঝুঁকি পর্যন্ত ছিল। এ দশ কাজ শেষ পর্যন্ত বারোতে গিয়ে ঠেকেছিল, তবে সে আরেক প্রসঙ্গ। হারকিউলিসের এ বিখ্যাত বারো কাজের উপাখ্যান প্রাচীন ইউরোপে এতই প্রসিদ্ধি পায় যে, প্রায় প্রত্যেক ভাষায়ই কঠিন অথবা বিপদসঙ্কুল কাজের নাম হয়ে যায় হারকিউলিসের কাজ, ইংরেজিতে যা হারকিউলিয়ান টাস্ক। অবশ্য মূল গ্রিক ভাষায় শব্দটি হলো হেরাক্লিয়াস এথলয়, যার সঠিক অনুবাদটি হলো হারকিউলিয়ান লেবার। তা সে লেবারই হোক আর টাস্কই হোক, তার পাঁচ নম্বরের কাজটি ছিল একটু বিদ্ঘুটে ধরনের, আপাতদৃষ্টিতে একেবারেই কোনো বীরের কাজ নয়। আর এ পাঁচ নম্বর কাজটি নিয়েই আমাদের আজকের রচনা।

হারকিউলিসকে একদিনের মধ্যে একটা গোয়ালঘর পরিষ্কার করে দিতে হবে। শুনে হাসি এলেও কাজটা কিন্তু মোটেই তেমন হাসির নয়। এটি একটি রাজকীয় গোয়ালঘর, যার মালিক হলেন রাজা অজিয়াস। গোয়ালঘরে তিন হাজার গরুর বাস। তিন হাজার গরু সামলানো মহাবীর হারকিউলিসের জন্য হয়তো তেমন কঠিন কিছু নয়, কিন্তু যে খবরটি আঁতকে ওঠার মতো, তা হলো তিন হাজার গরু ৩০ বছর ধরে এ গোয়ালঘরে মলমূত্র জমা করে যাচ্ছে, এর মধ্যে একদিনও ঘরটি পরিষ্কার করা হয়নি। ধারণা করা যায়, কত গোবর জমেছিল এ ৩০ বছরে! রাজার গরুগুলোর নিশ্চয়ই খাবারের অভাব ছিল না, তাই দেয়ার বেলায়ও তাদের কার্পণ্য করার কথা নয়। হারকিউলিস অনেক মানুষ, দেবতা, দৈত্য-দানবের সঙ্গে লড়েছেন এবং জিতেছেন। কিন্তু অন্য পক্ষে যেখানে নিশ্চল নিথর গোবরের পাহাড়, সেখানে তো তার ভুবনখ্যাত পেশি আর লক্ষ্যভেদী বর্শার কোনোই ভূমিকা নেই। তাহলে? এবার মহাবীর তার বাহুবলের সঙ্গে সঙ্গে বুদ্ধিবলেরও শরণাপন্ন হলেন। তিনি গোয়ালঘরের দুদিকের দেয়াল ভেঙে দুটি বড় পথ বের করলেন। অদূরেই বয়ে যাচ্ছিল দুটি খরস্রোতা নদী— আলফিয়াস আর পেনিয়াস। খাল কেটে দুই নদীর পানি বইয়ে দিলেন গোয়ালঘরের ভাঙা দেয়ালের মধ্য দিয়ে। তার পর তো শুধু বসে বসে দেখা। সূর্যাস্তের আগেই অজিয়াস রাজার গোয়ালঘর এক্কেবারে ধুয়ে সাফ!

হারকিউলিসের গোয়ালঘর প্রকল্পই জগতের প্রথম হাইড্রো- ইঞ্জিনিয়ারিং প্রয়াস কিনা, তা নিয়ে ঐতিহাসিকরা গবেষণা করেছেন, এমন তথ্য আমার জানা নেই। তবে আধুনিককালের এক হাইড্রো-ইঞ্জিনিয়ারিং প্রয়াস অজিয়াসের গোয়ালঘরের চেয়ে কোটি কোটি গুণ বেশি বস্তুর সমাবেশ ঘটিয়েছে, এমন খবর অতিসম্প্রতি কাগজে-টিভিতে দেখা গেছে। খবরে জানা যায়, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন, ফারাক্কা বাঁধের ফলে গঙ্গায় পলি জমে জমে তলদেশ এতটাই উঁচু হয়ে গেছে যে, এর ফলে বিহারে প্রতি বছর বন্যা হচ্ছে। এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় তার মতে, ফারাক্কা বাঁধটাই ভেঙে ফেলা। কথাটি কোনো মেঠো বক্তৃতা নয়, একেবারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃরাজ্য কাউন্সিল সভায় রীতিমতো প্রস্তাব; যেখানে উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। যথেষ্ট উপাত্ত-পরিসংখ্যানের সহায়তা নিয়ে আটঘাট না বেঁধেই এমন একটি প্রস্তাব তিনি দিয়েছেন বলে মনে হয় না। একেই বোধহয় বলে ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। আমি যখন খুব ছোট, নিয়মিত পত্রিকা পড়ার অভ্যাস তখনো গড়ে ওঠেনি, তখন একবার কোনো এক পত্রিকায় দেখেছিলাম, পূর্ব পাকিস্তানের নাকের ডগায় গঙ্গায় বাঁধ দেয়ার পাঁয়তারা করছে ভারত। পাকিস্তান সরকারের এ ব্যাপারে আশ্চর্য রকমের গাছাড়া ভাব দেখে পত্রিকার মন্তব্য ছিল: হয়তো বাঁধটি পশ্চিম পাকিস্তানের সংলগ্ন হলে সরকার এতটা নির্বিকার থাকতে পারত না। তার পর অবশ্য কিছুটা দৌড়ঝাঁপ হয়েছিল, তবে লোক দেখানো না হলেও তা ছিল একেবারেই অন্তিমকালীন প্রয়াস। তাই বলা যায়, বাঁধটা আমাদের ওপর চেপে বসেছে অনেকটা নিয়তির বিধানের মতো। স্বাধীনতার পর যখন আমাদের নিজেদের হয়ে কথা বলার যোগ্যতা হলো, তখন তো সব শেষ। ফারাক্কা তখন ফিতা কেটে চালু হওয়ার পর্যায়ে। এ পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর সরকার ভারতের সঙ্গে ৪৪ হাজার কিউসেক পানির হিস্যা আদায় করে এক চুক্তি করেছিল, (আর হুগলির জন্য বরাদ্দ ছিল ১১ হাজার কিউসেক)। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার পর চুক্তিটি আর কার্যকর থাকেনি। বস্তুত এর পরই শুরু হয় গঙ্গার পানির জন্য আমাদের হাহাকার। তবে বাংলাদেশে গঙ্গার পানি ইস্যুতে আন্দোলনগোছের যা কিছু হয়েছে, তার অধিকাংশই ছিল বৃহত্তর ভারতবিরোধিতার প্রেক্ষাপটে। ফলে এত বড় পরিবেশ বিপর্যয়ের পরও এ দেশে ফারাক্কা নিয়ে বৃহত্ পরিসরে কার্যকর কোনো জনমত দানা বাঁধতে দেখি না।

তাই বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর মতো ব্যক্তিত্বের পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাব বাংলাদেশের জন্য স্বর্গীয় উপহার বৈকি! একটু সাবধানে হলেও এপারে আমরা যে একটু নড়েচড়ে বসেছি, তার আভাসও পত্রিকায় পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু ঘটনাটি কী? কেনইবা এত সাধের আর প্রেস্টিজের ফারাক্কা বাঁধ এত দিন পর এমন বৈরী হয়ে উঠল যে, তাকে ভেঙে ফেলতে বলতেও মুখ্যমন্ত্রীর মতো মানুষের বুক কাঁপে না?

ব্যাপারটা ঠিক অজিয়াসের গোশালার মতোই। সেখানে তিন হাজার গরু ৩০ বছর ধরে শুধু খেয়েছে আর টনকে টন গোবরের স্তরের পর স্তর বিন্যাস করে চলেছে। সেটা পরিষ্কার করতে দরকার পড়েছিল হারকিউলিসের মতো মহাবীরের। তিনি তাঁর কিংবদন্তিশক্তি আর হেলেনীয় বিজ্ঞানের সমন্বয় ঘটিয়ে কাজটি উদ্ধার করেছিলেন একদিনে। এবার ব্যাপারটা হলো ৫০ বছরের। সেই ১৯৭৫ সালের ২১ এপ্রিলে বাঁধের যাত্রা, তার পর প্রতি বছর উজান থেকে বয়ে আনা লাখো কোটি টন পলি জমা হয়েছে গঙ্গার বুকে। কারণ শুষ্ক মৌসুমে বাঁধের কারণে নদীর পানি যখন থমকে দাঁড়ায়, তখন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বালিকণাও সে ধরে রাখতে পারে না। সর্বশেষ জরিপমতে গঙ্গা উত্তর থেকে প্রতি বছর পলি বয়ে আনে প্রায় ৭৩৬ মিলিয়ন টন, আর তা থেকে ফারাক্কার উজানে জমা পড়ে প্রায় ৩২৮ মিলিয়ন টন। তাই ৫০ বছরে ‘ক্ষুদ্র বালিকার কণা’ মা গঙ্গার জঠর এতটাই পূর্ণ করে ফেলেছে যে, বর্ষার সবটুকু বারিরাশি তিনি আর ধারণ করতে পারেন না, বাড়তিটা উগরে দেন প্রবল বন্যার আকারে। পুরাণমতে দেবী গঙ্গার মর্ত্যে আগমন ঘটেছিল সগর রাজার ষাট হাজার পুত্রকে জীবন দানের জন্য, কিন্তু আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারদের হাতে পড়ে তিনিই হয়ে পড়েছেন জীবনশঙ্কার প্রবল এক কারণ।

যা-ই হোক, বিহারকে বন্যামুক্ত করতে নীতিশ কুমার এখন প্রকারান্তরে একজন হারকিউলিসেরই খোঁজ করছেন, কিংবা তার চেয়েও মহাবলবান কাউকে। কারণ ফারাক্কাকে গুঁড়িয়ে দেবে এমন মহাবীর কে আছে আধুনিক ভারতে? তাই তিনি প্রস্তাব করছেন খোদ প্রধানমন্ত্রীর সামনে, একমাত্র যার শক্তিকেই হারকিউলিসের মহাশক্তির সঙ্গে তুলনা করা যায়। আর বুদ্ধির জন্য প্রস্তাব করেছেন ‘একটা কার্যকর জাতীয় পলি ব্যবস্থাপনা নীতির’। আশা হারকিউলিসের মতোই একটা বুদ্ধি বের করবে এ ব্যবস্থাপনা নীতি, যার মাধ্যমে অর্ধশতাব্দীর জঞ্জাল থেকে গঙ্গা তো পরিত্রাণ পাবেই; ভবিষ্যতে অন্যান্য নদীতেও যাতে পলি সমস্যার উদ্ভব না ঘটে, তারও একটা সুরাহা হবে।

একটা লাখ টাকার প্রশ্ন এ প্রসঙ্গে এসে যায়। মাত্র তো ৫০ বছর; এর মধ্যেই গঙ্গার এ হাল হবে, বাঁধের জন্মলগ্নে এটা কি কেউ আঁচ করতে পারেনি? ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, পেরেছিলেন বটে কেউ কেউ। তবে তত্কালীন ভারতের অবিসংবাদিত নেতা জওহরলাল নেহরুর বৃহত্ প্রকল্প আর উন্নয়নকে সমার্থক করে ফেলার প্রবণতা, আর দেশব্যাপী প্রবল পাকিস্তান বিদ্বেষের ঢেউ তাঁদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দেয়নি। এ রকমই একজন হলেন কপিল ভট্টাচার্য, তত্কালীন পশ্চিমবঙ্গের সেচ ও জলপথ ডিরেক্টরেটের সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার। তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী ছিল, ফারাক্কার মূল লক্ষ্য অর্জিত তো হবেই না, উল্টো তা আরো নানা জটিলতার সৃষ্টি করবে। ফারাক্কা বাঁধের মূল লক্ষ্য ছিল— গঙ্গার পানি সরিয়ে নিয়ে ভাগীরথী দিয়ে হুগলি নদীতে ফেলা; যার মাধ্যমে হুগলি নদীর মোহনায় পলি জমা রোধ করে কলকাতা বন্দরের নাব্যতা রক্ষা করা হবে। যারা ওপারের খবরাদি একটু-আধটু রাখেন, তারা নিশ্চয়ই জানেন, কলকাতা বন্দরের নাব্যতা ধরে রাখার জন্য কলকাতা হাইকোর্টকে পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। ২০১৩ সালের এক কোর্ট রুলিংয়ের কল্যাণে বন্দরের ড্রেজিং ব্যবস্থা টিকে আছে; কারণ কেন্দ্রীয় ড্রেজিং সংস্থা এত টাকা খরচ করে বন্দর বাঁচিয়ে রাখতে আর আগ্রহী নয়। একটা পরিসংখ্যান দিলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে বুঝতে সুবিধা হবে। ফারাক্কা নির্মাণের আগে কলকাতা বন্দরে ড্রেজিং করতে হতো ৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন ঘনমিটার আর বর্তমানে করতে হয় ২১ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ঘনমিটার। তাই ফারাক্কার মূল লক্ষ্য যে অর্জিত হয়নি, এটা বুঝতে এখন আর বিশেষজ্ঞের দরকার হয় না। গ্রামেগঞ্জে এ অবস্থাটাকেই বোধহয় বলে ‘মারও খেলাম, পেটও ভরল না’। একদিকে মূল লক্ষ্যটাও অর্জিত হলো না, অন্যদিকে গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো স্থায়ী বন্যার ব্যবস্থা। ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের মরুকরণ প্রক্রিয়া আর সুন্দরবনের মৃত্যুঘণ্টার কথা না হয় এ প্রসঙ্গে নাই এল। আরো খবর আছে! শুনছি গোটা ফারাক্কা বাঁধটাই অকার্যকর হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। নদীতল ভরাট হয়ে যাওয়ায় স্রোতের চাপ পড়ছে দুই কূলে। তবে দক্ষিণে রাজমহল পাহাড়ি অঞ্চলের পাথুরে মাটির ওপর কোপ বসাতে না পারলেও স্রোতের তোড়ে উত্তর পাড়ের নরম মাটি প্রবল ভাঙনের মুখে। ভারতীয় পত্রপত্রিকারই খবর, ফারাক্কাকে পাশ কাটিয়ে গঙ্গা তার ১৫ শতাব্দীর পুরনো পথ ধরে প্রবাহিত হওয়ার তোড়জোড় করছে।

এ লেজেগোবরে অবস্থাটা কেন হলো? ওই যে বললাম, ভারতে তখন একদিকে নেহরুর বিরাট বিরাট স্বপ্ন-প্রকল্প বাস্তবায়নের যুগ, আর তার সঙ্গে দেশপ্রেমের দুকূল ছাপানো জোয়ার। সেই জোয়ারের তোড়ে ভেসে গেলেন কপিল ভট্টাচার্যের মতো প্রাদেশিক ইঞ্জিনিয়ার; যিনি এ প্রতিটি বিষয়ে ৫০ বছর আগেই নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। কলকাতা পোর্টের মরণদশা, বিহারে পৌনঃপুনিক বন্যা আর উত্তরবঙ্গের ভাঙন কোনোটাই তিনি বাদ দেননি। কিন্তু পুরস্কারের বদলে তিনি পেয়েছিলেন তিরস্কার। সে সময়কার পানিমন্ত্রী কেএল রাও তাকে বলেন ‘বিশ্বাসঘাতক’ আর বাংলা আনন্দবাজার পত্রিকা আরো একধাপ এগিয়ে গিয়ে তাকে বানিয়ে দিল ‘পাকিস্তানের চর’। শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে হয় তাকে।

ফারাক্কার সমস্যা ভারত কীভাবে সমাধান করবে, তা বলার সময় এখনো আসেনি। কারণ জাতীয় গর্বের প্রতীক ফারাক্কাকে গুঁড়িয়ে দেবে, এমন মহাশক্তিধর হারকিউলিসের আবির্ভাব এখনো ভারতে ঘটেনি। তার পর রয়ে গেছে নানা পক্ষ ও স্বার্থ। পশ্চিমবঙ্গ থেকে তো এরই মধ্যে আওয়াজ উঠেছে ফারাক্কার পক্ষ নিয়ে। তাই ফারাক্কার কী হবে, সে প্রশ্নের চেয়ে গঙ্গার কেন এ হাল হলো, এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজাটাই বোধহয় এ মুহূর্তে বেশি প্রাসঙ্গিক। অন্তত এখন আমরা জানি অনেক টেকনিক্যাল কারণ ছিল এর মূলে, যার প্রায় সবক’টিই কপিল ভট্টাচার্য উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আসল কারণটি তো দার্শনিক— প্রকৃতির সঙ্গে আমরা কিরূপ আচরণ করব, তার মধ্যেই নিহিত। অনেকে বলেন, তার ওপর যত অত্যাচার হয়, প্রকৃতি নির্মমভাবে তার প্রতিশোধ নেয়। আমি বলি না, মা ধরিত্রী আমাদের শত অত্যাচার নীরবে সহ্য করেন, তিনি কোনো প্রতিশোধ নেন না। কিন্তু তার ধারণক্ষমতা তো অসীম নয়, একসময় তা উপচে পড়বেই। সেটাকেই যদি প্রতিশোধ বলি, তাহলে বলতে হবে সীমা অতিক্রম করলে প্রকৃতি অবশ্যই প্রতিশোধ নেবে, তা সে যত পরেই হোক। যেমনটা হচ্ছে ফারাক্কার বেলায়।

এ অভিজ্ঞতার পর আমরা কি আমাদের সুন্দরবনের দিকে আরেকবার চোখ ফেরাব? আমরা কি আরেকবার ভেবে দেখব, বিশ্বের সর্ববৃহত্ ম্যানগ্রোভ বন, লক্ষ বছরে তিলে তিলে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি করবে না রামপালে নির্মিতব্য কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুেকন্দ্র, এ ব্যাপারে আমরা শতভাগ নিশ্চিত কিনা? এ মুহূর্তে সুন্দরবন নিয়ে যে বিতর্ক হচ্ছে, আমার দৃষ্টিতে তাকে মোটা দাগে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। একভাগে পড়ে টেকনিক্যাল অন্য ভাগে পড়ে বিশ্বাস কিংবা অনুমানগত বিষয়। কোনো ভাগেই আমরা বিতর্করত পক্ষগুলোর মধ্যে কোনো ঐকমত্য লক্ষ করি না। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখানে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যা ক্ষতির মাত্রাকে গ্রহণযোগ্য মাত্রায় নিয়ে আসবে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা বলছেন, এমন প্রযুক্তি ভূভারতে নেই। সামনাসামনি কথা বলেও একপক্ষ আরেক পক্ষকে বাগে আনতে পারছে না। উভয়ই বলছে, ‘জেগে ঘুমালে জাগাবে কে?’ আমি সত্যিই দ্বিধান্বিত। আবার অনুমানের ক্ষেত্রে প্রকল্পপক্ষ বলছে, শতভাগ নিশ্চয়তাসহ প্রযুক্তিগত রক্ষাকবচগুলো অনুসরণ করা হবে, আর বিরোধীরা বলছে, এটা যিনি বিশ্বাস করেন, তিনি বোকার স্বর্গে বাস করেন। ব্যক্তিগত মুনাফার আওতায় পড়ে না, এমন সরকারি প্রকল্পই তো ব্যয়সাশ্রয়ের জন্য পরিবেশগত বাধ্যবাধকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখায়। তাই মুনাফার লক্ষ্যে পরিচালিত রামপাল বিদ্যুত্ প্রকল্প সুন্দরবন রক্ষার জন্য ঘুম হারাম করবে, একথা কে বিশ্বাস করবে? উদাহরণ দিয়ে তারা বলেন, সচিবালয় থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরের বুড়িগঙ্গা যেখানে মরতে বসেছে সবার চোখের সামনে, তখন কেমন করে বিশ্বাস করি ৩০০ কিলোমিটার দূরের সুন্দরবন আমরা বাঁচাতে সক্ষম হব? সত্যিই তো, আমরা কি বাংলাদেশে বাস করি না? নিজেদের চরিত্র কি আমাদের জানা নেই?

আমার মতো অনেকেরই হয়তো জিজ্ঞাসা, আমরা কি সুন্দরবন নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেব, তা সে যত কম মাত্রারই হোক?

লেখক: প্রাক্তন অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়; বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সাবেক সদস্য

Advertisements

লুকাপ, রেফারেন্স ও ম্যাচ ফাংশন

লুকাপ, রেফারেন্স ও ম্যাচ ফাংশন

VLookup, HLookup, Match, Index and Choose

ভিলুকাপ(VLookup): একই শিটে কিংবা অন্য শিটের কোন কলামের মাঝে রাখা ভেল্যু খোঁজার জন্য এই ফাংশন ব্যবহার করা হয়। এই ফাংশন শেখার জন্য প্রথমে এক্সেল ওপনে করে নিচের চিত্রের মত করে ডাটা লিখুন। এখন আপনার ফাংশন লেখার পালা। এ জন্য টেবিল-এ তে বি৩ সেলে image001=VLOOKUP(A3,E5:G8,3,FALSE) লিখে এন্টার চাপুন। যদি সব ঠিক লেখে থাকেন তবে “Printer” লেখা দেখাবে। এবার যদি বুঝে থাকেন যে প্রিন্টার লেখাটা কোথা থেকে আসল তবে আপনার এই ফাংশন শিখা শেষ। আর যদি না ধরতে পারেন তাহলে আবার ক্লিয়ার করছি বিষয়টা। আপনি যখন =VLOOKUP(A3 লিখেছেন, এর মানে দাড়ায়, A3 এর যে মান আছে তাকে খোঁজতে হবে, এর পর যখন =VLOOKUP(A3,E5:G8 লিখেছেন তখন এর মানে দাড়িয়েছে A3 কে খোঁজতে হবে E5:G8 এর প্রথম কলামে কারণ এক্ষেত্রে প্রথম কলাম হলো টেবিল-বি এর আইডি। প্রথম কলাম ব্যতিত অন্যকলামে আইডি থাকলে তা খোঁজে পাবে না। এর পর যখন =VLOOKUP(A3,E5:G8,3, লিখেছেন তখন এর মানে দাড়িয়েছে A3 কে খোঁজতে হবে E5:G8 এর মাঝে এবং A3 এর আইডি ম্যাচ করলে ৩ নং কলামের মানকে দেখাতে হবে। আর শেষে FALSE এর মানে হল সঠিক মান খোঁজা।

এবার দেখুন আপনার টেবিল-এ এর A3 তে আছে 104 এখন টেবিল-বি এর প্রথম কলামে ১০৪ আছে আর E8 হল টেবিল-বি এর প্রথম কলাম মানে ১ আর এই সারি বরাবর ২নং কলামে আছে HP এবং ৩নং কলাম আছে Printer । যদি ফাংশ আপনি ১ দেন তবে 104 দেখাবে, ২ দিলে HP দেখাবে আর ৩ দিলে কি দেখাবে? এই প্রশ্নটা আপনার জন্য।

এর আপনি টেবিল-এ এর বি কলামের বাকি খালি সের গুলোতে ফাংশন পেস্ট করার জন্য A3 কপি করে খালি গুলোতে পেস্ট করুন। আপনার কাজ হয়ে যাবে তবে এর আগে আপনাকে সম্পূর্ণ ফাংশনটা =VLOOKUP(A3,$E$5:$G$8,3,FALSE) এভাবে লিখতে হবে। তা না হলে সাংঘাতিক মজা অপেক্ষা করবে আপনার জন্য। $ এই সাইন ব্যবহারের মানে হল টেবিল-বি কে স্থির করে দেওয়া। সবচাইতে বেশি ভাল হয় একবার $ সাইন ছাড়া ফাংশন কপি করে দেখেন কি হয়।image002

এইচলুকাপ (HLookup): এর কাজ হল কলাম বরাবর না দেখে সারি বরাবর দেখা। মূলত এখানে সারি কলামের কাজ করছে =HLOOKUP(A3,$E$5:$H$7,3,FALSE) এই ফাংশন লেখার সাথে সাথে টেবিল এর আইডিকে টেবিল বি এর আইডির সাথে মিলাবে, প্রথম আইডি না ম্যাচ করলে দ্বিতীয়টা দেখবে, এভাবে যতক্ষণ না মিলবে ততক্ষণ ডানদিকে খোঁজতে থাকবেimage003

 ম্যাচ(Match): আপনি যদি ভিলুকাপ ভাল করে বুঝে থাকেন তবে এই ফাংশন আপনার কাছে এখন দুধ ভাত সমতুল্য। কারণ সেল এ২ তে যা লেখা থাকবে তা যদি টেবিল-১ এর এর কোন মানের সাথে মিল থাকে তবে সেই মান টেবিলের কত নাম্বার সারিতে আছে তার নাম্বার বি২ তে দেখাবে। ফাংশনে ব্যবহৃত শুণ্য ভিলুকাপের FALSE এর সমান।image004

ইনডেক্স(Index): এখানেও একই কাহিনী, এখানে চিত্রে ৯নং সারিতে যে ফাংশনটি লেখা আছে তা সি২ তে লেখা হয়েছে এবং ১০নং সারিরটা সি৩ তে। সেল এ২ দে যে মান থাকবে সিরিয়াল নাম্বার ধরে টেবিল হতে সেই সিরিয়ালে কি আছে তা দেখাবে কিন্তু টেবিলে যদি একাধিক কলাম থাকে সে ক্ষেত্রে কোন কলাম হতে দেখাবে তার জন্য বি২ কে ব্যবহার করা হয়েছে। চিত্রে দেখুন এ২ এ ৩ আছে এবং বি২ এ আছে দুই এর মানে হল টেবিলের ২ নং কলাম হতে ৩ নং মান বের করতে হবে। এবং টেবিল-এ এর ২ নং কলামে তিন নাম্বার সিরিয়ালে আছে ৯২। সি২ তে ৯২ ই দেখাচ্ছে। কিন্তু সি৩ তে বি২ কে ব্যবহার করা হয়নি। তাই ৩ নং সিরিয়ালে থাকা ৯৭ কে দেখাচ্ছে।image005

চোজ(Choose): CHOOSE(index_num, value1, [value2], …) এখানে ইনডেক্স নাম্বার মানে পরবর্তীতে যে মান গুলো দেওয়া হবে তার সিরিয়াল নাম্বার। এখানে ইনডেক্স এর মান হল সেল এ২ তার মানে এ২ তে যে নাম্বার থাকবে ধরুন যদি দুই থাকে তবে ফাংশনে দুই নাম্বার মান যা থাকবে তাকে দেখাবে। না বুঝে থাকলে মন্তব্য করুন।

image006

আমার অভিজ্ঞতা

ঘটনাটি গত ১১-০৩-২০১৫ ইং তারিখে। বরাবরেইমতই আমার শাখায় সেদিন কোন ক্যাশ নেই। কিছু ছেড়া টাকা ছাড়া। সদ্য ইতালী ফেরত এক স্বাস্থ্যবান সুদর্শন যুবক আসছে রেমিট্যান্সের টাকা নিতে। যে থানে আমার দশ হাজার টাকা দেওয়ার সামর্থ নেই সেখানে কিভাবে দুই লাখ টাকা দিব! রেমিট্যান্স কর্মকর্তা ভাউচার লিখে আমার কাছে দিলে তাকে জিজ্ঞাস করলাম যেখানে একটা টাকা নেই সেখানে সে এতবড় এ্যামাউন্ট কিভাবে দিতে যাচ্ছে। ত-কর্মকর্তা জবাব দিল যে গ্রাহক টাকা ক্যাশ নিবে না হিসাবে জমা দিবে। আমি কনফার্ম হওয়ার জন্য গ্রাহক কে জিজ্ঞাস করলাম, উত্তরে গ্রাহক বলল না সে ক্যাশ টাকাই নিবে। পূনরায় আমার কর্মকর্তাকে আবার জিজ্ঞাস করলাম যে তিনি কি গ্রাহককে বলেছে কি না যে ক্যাশ দিতে পারবো না। কর্মকর্তা বলল হিসাবে জমা দিবে শর্তেই ভাউচার লিখেছে। মাঝে অনেক ঘটনা, তবে মূল ঘটনা হল- গ্রাহক বলছে সে দেশে আশার সময় নগদ টাকা ইতালীতে জমা দিয়ে আসছে আর আমরা কেন নগদ দিতে পারব না, ঐখানকার এজেন্ট তাকে বলেই দিছে যে এখানে টাকা জমা দেওয়ার সাথে সাথেই দেশে টাকা চলে যাবে। তার কথা মত গ্রাহক ক্যাশ চাইছে আমাদের কাছে। আমি তাকে বুজাতে ব্যর্থ হলাম যে বিদেশ হতে ক্যাশ টাকা আসে না প্রিন্টেড কিছু ডকুমেন্ট ছাড়া, সব শেষে হাল ছেড়ে দিয়ে আমার কর্মচারী কে বললাম বিষয়টা ফয়সালা করতে। আর তিনি দক্ষতার সহিত সমাধান বের করল এবং গ্রাহক কে বুঝাতে পারল। কথায় আছে না জহুরী জহর চিনে আর ….. চিনে কচু।

প্রকৃত ঘটনা হলঃ গ্রাহক আমার কর্মকর্তাকে ঠিকই বলেছে যে হিসাবে জমা রাখবে।তার বিশ্বাস হচ্ছিল না যে আমরা টাকা টা তাকে আসলেই দিচ্ছি কি না কারন তাকে ত ক্যাশ দেখাচ্ছি না, একটা সাদা কাগজ দিয়ে তাকে বলছি তার টাকা আসছে আর আরেক কাগজ দিয়ে বলছি হিসাবে জমা হয়েছে, বিষয়টা আসলেই আমার কাছে ক্লিয়ার না কাগজ জমা দিয়ে হিসাবে টাকা জমা হয় কি ভাবে! তাই তিনি ক্যাশ আগে হাতে নিয়ে দেখবেন তার পর হিসাবে জমা দিবেন।

১২-০৩-২০১৫ ইং অনেক গুলো ঘটনার একটা। যথারীত আজও ক্যাশ নেই কা্‌উন্টারে। স্থানীয় হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকের কল আমার ক্যাশিয়ার ধরিয়ে দিলেন আমাকে। সালাম দিয়ে জিজ্ঞাস করলাম কি সমস্যা। রাগত স্বরে জানতে চাইল টাকা না দিয়ে তার লোক কে ফেরত দেওয়া হলো কেন। আমি বললাম ক্যাশ নাই। তার স্বর আরো চরমে এবার বলল আড়ের ম্যানেজার টাকার চাওয়ার আগে দিয়া দিত আর আইসা টাকা দিতে সমস্যা করি। টাকা দিতে সমস্যা হয় তা আমি উপরে জানাইছি কি না তা জানতে চাইল, আমি বললাম ইতিমধ্যে দুই বার জানানো হয়েছে। তিনি আবার জানতে চাইল টাকা কখন দিতে পারব? আমি বললাম পাঁচটা মিনিট পরে কল দেন আমি আপনাকে কনফার্ম করতেছি কথন দিতে পারব। আমার এই কথায় উনি কি বুঝছেন জানি না, তবে এই খানে আমার ত মনে হয় না তাকে অপমান করারমত কিছু বলেছি।সাথে সাথেই শুরু হল সিলেটি মাত, আমার গোষ্টি উদ্ধার করার পর কল কেটে দিল। আমি কোন জবাব দিইনি তাকে- শুধু একটা বিষয় ভাবছিলাম তখন একজন স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাংলা ভাষায় কথা বুঝে না নিজের আঞ্চলিক ভাষা ছাড়া তাহলে সেই খানকার সাধারন পাবলিকের কি অবস্থা হবে?

যদি তোর ডাক শোনে কেউ না আসে তবে একলা চলোরে

“যদি তোর ডাক শোনে কেউ না আসে তবে একলা চলোরে”- এই শিরোনামে দুইজন ব্যক্তির গান আছে, একজন অতিপরিচিত রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর আরেকজন বর্তমান সময়ের জীবনমুখী থারার অন্যতম শিল্পী নচিবেকা চক্রবর্তী। গানের শিরোনামটা এক হলেও ভাব সম্পূর্ণ বিপরীত। রবি ঠাকুর অদম্য উৎসাহে সামনে এগিয়ে যেতে বলেছেন আর নচিকেতা বুঝিয়ে দিয়েছেন জীবটা আসলে কি। গান দু’টি নিচে দেওয়া হল


যদি তোর       ডাক শুনে কেউ না আসে       তবে       একলা চলো রে।
একলা চলো,       একলা চলো,       একলা চলো,       একলা চলো রে॥
যদি       কেউ কথা না কয়,       ওরে ওরে ও অভাগা,
যদি       সবাই থাকে মুখ ফিরায়ে       সবাই করে ভয়—
তবে        পরান খুলে
ও তুই       মুখ ফুটে তোর মনের কথা        একলা বলো রে॥
যদি        সবাই ফিরে যায়      , ওরে ওরে ও অভাগা,
যদি        গহন পথে যাবার কালে কেউ ফিরে না চায়—
তবে        পথের কাঁটা
ও তুই       রক্তমাখা চরণতলে        একলা দলো রে॥
যদি        আলো না ধরে,       ওরে ওরে ও অভাগা,
যদি        ঝড়-বাদলে আঁধার রাতে        দুয়ার দেয় ঘরে—
তবে        বজ্রানলে
আপন        বুকের পাঁজর জ্বালিয়ে নিয়ে        একলা জ্বলো রে॥

লিখেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর  


যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে,
তবেই নাকি একলা চলতে হয়!

একলা মানুষ মাতৃগর্ভে একলা মানুষ চিতায়
একলা পুরুষ কর্তব্যে একলা পুরুষ পিতায়
আর মধ্যিখানের বাকিটা সময়
একলা না থাকার অভিনয়

যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে,
তবেই নাকি একলা চলতে হয়!

এক পায়েতে দাড়িয়ে তাল গাছটাও একা
দিনের শেষে ঘুমের দেশে একলা সে দেশ দেখা
যদি কেউ কথা না কয়
ওরে ও রে ও অভাগা কেউ কথা না কয়
তাতেও কিছু যায় না এসে,
তাতেও কিছু যায় না এসে বোঝে যদি তোর মনেরই কথা
মনের কথা বোঝাবারে একলা বলতে হয়

যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে,
তবেই নাকি একলা চলতে হয়!

একলা তুমি ভাবাদর্শে একলা চিন্তায়
তোমার ভাবনা সূর্য হয়ে ডুববে যে সন্ধ্যায়
যদি সবাই ফিরে যায়
ওরে ও রে ও অভাগা সবাই ফিরে যায়
ফিরবে না যে জানবি সে তোর,
ফিরবে না যে জানবি সে তোর ভাবনার মোড়কে আছে ডুবে
ছিড়বে মোড়ক ফিরবে সে তার অপনও কুলায়

যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে,
তবেই নাকি একলা চলতে হয়!

একলা মানুষ মাতৃগর্ভে একলা মানুষ চিতায়
একলা পুরুষ কর্তব্যে একলা পুরুষ পিতায়
আর মধ্যিখানের বাকিটা সময়
একলা না থাকার অভিনয়

যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে,
তবেই নাকি একলা চলতে হয়!

-নচিকেতা

গানের লিংক

The “CUPPYCAKE” Song

The Cuppycake Song
(Lyrics and Music by Judianna Castle)
 
You’re my Honeybunch, Sugarplum
Pumpy-umpy-umpkin, You’re my Sweetie Pie
You’re my Cuppycake, Gumdrop
Snoogums-Boogums, You’re the Apple of my Eye
And I love you so and I want you to know
That I’ll always be right here
And I love to sing sweet songs to you
Because you are so dear

অবাক হওয়ার কিছু নেই, এই গানটি আমি রিংটোন হিসেবে গত পাঁচ বছর যাবৎ চালাচ্ছি। একটা রিংটোন দীর্ঘ সময় অন্য কেউ চালায় কিনা জানি না কিন্তু আমি ২০১০ সাল হতে এটি চালাচ্ছি। আমার ভাল লাগে

বিস্তারিত

না রাখিলা জলে আমায় না রাখলা ডাঙ্গায়

না রাখিলা জলে আমায়

না রাখলা ডাঙ্গায় তুমি না রাখলা ডাঙ্গায়

একটা যন্ত্রনার মাকড়শা বুকে দুঃখের জাল বুনায়।

একটা যন্ত্রনার মাকড়শা বুকে কষ্টের জাল বুনায়।

 

দিবানিশী প্রতি ক্ষনে আছ তুমি আমার মনে

হৃদয়তে খোদাই করে প্রেমের লিপিকায়

একটা যন্ত্রনার মাকড়শা বুকে দুঃখের জাল বুনায়।

একটা যন্ত্রনার মাকড়শা বুকে কষ্টের জাল বুনায়।

 

তুমিও কি তেমনি করে ভাব মোরে ক্ষনে ক্ষনে

নাকি আমি শুধুই একা আছি দুটানায়

একটা যন্ত্রনার মাকড়শা বুকে দুঃখের জাল বুনায়।

একটা যন্ত্রনার মাকড়শা বুকে কষ্টের জাল বুনায়।

 

না রাখিলা জলে আমায়

না রাখলা ডাঙ্গায় তুমি না রাখলা ডাঙ্গায়

একটা যন্ত্রনার মাকড়শা বুকে দুঃখের জাল বুনায়।

একটা যন্ত্রনার মাকড়শা বুকে কষ্টের জাল বুনায়।

কথাঃ সংগ্রহ

সকাল বলে দিন কেমন যাবে

অগ্রণী ব্যাংক গোলাপগঞ্জ শাখা আমার ব্যাংকিং ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় কর্মস্থল। Morning shows the day প্রবাদটি যদি ভুল না হয় তবে এই শাখায় আমার কর্ম জীবন কেমন যাবে তা সহজেই বুঝা যায়। পূর্বের শাখা হতে আসার মূল কারণ ছিল দুই জন মানুষের খারাপ চরিত্র শেষ কালে একজন। আর আজ যেখানে এসেছি সেখানে সতের জনের মাঝে সাত জন বাদ দিলে বাকি সবাই আগের দু’জনের মত মানে আমার পূর্বের শাখার মত। আর একজন যে ব্যক্তি সে সেখানেও যেমন ছিল এখানেও তেমন আছে। আঞ্চলিক কার্যালয় ত বার বার আমার অনুরোধে আমাকে শাখা বদল করাবে না। তাই এখানে টিকার জন্যে একটা স্ট্যাটেজি নিয়েছি যেটা আমি ভাল পারি, চুপ করে থাকা। যে যাই করুক আমি চুপ। ….

ক্যান্সার থেকে বাঁচাতে পারে ৮টি মশলা

শিরোনামটি দেখে একটু হোঁচট খেলেন! ভাবছেন, সারা পৃথিবীর বড় বড় বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, বৈজ্ঞানিকরা আজ পর্যন্ত যে রোগের চিকিৎসা খোঁজার জন্যে হিমশিম খাচ্ছেন, সেই ক্যান্সার রোগ থেকে বাঁচতে সাহায্য করবে মশলা!

হ্যাঁ, মশলাই আপনাকে বাঁচাতে পারে ক্যান্সার থেকে। মজার ব্যাপার হলো- সব মশলাই মজুত রয়েছে আমাদের রান্নাঘরে। এক কথায় সেই সব মশলা ম্যাজিক ড্রাগের মতোই কাজ করে। ভাবছেন তো কী এই সব মশলা যার কথা আপনি জানেন না! ঠিক আছে জেনে নিন সেই মশলাগুলোর নাম। জানাচ্ছেন- মো: বাকীবিল্লাহ

হলুদ
হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন নামটা। হলুদই কিন্তু সেই জাদু মশলা যা ক্যান্সারের সঙ্গে লড়তে আপনার শরীরকে সাহায্য করে। এতে রয়েছে শক্তিশালী কারকিউমিন পলিফেনল। অনেকদিনের গবেষণার পর প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, কারকিউমিন ক্যান্সার সেলের গ্রোথকে নিয়ন্ত্রণ করে। কারকিউমিন শরীরে অ্যাপপটোসিস তৈরি করে যা শরীরে ক্যান্সারের জন্ম দেওয়া ক্ষতিকারক সেল মেরে ফেলতে সাহায্য করে। মেলানোমা, ব্রেস্ট ক্যান্সার, ব্রেন টিউমার, প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার এবং লিউকেমিয়ার মতো ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে থাকে হলুদ।

মৌরি
খাওয়ার পরে মুখসুদ্ধি হিসেবে প্রত্যেক গৃহস্থ বাড়িতেই মজুত থাকে মৌরি। কিন্তু ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধে এই মৌরিই যে এক শক্তিশালী যোদ্ধা তা কি জানতেন? মৌরিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইটো-নিউট্রিয়েন্টস এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ক্যানসার প্রতিরোধে খুবই উপকারী। মৌরিতে রয়েছে অ্যানেটহোল যা ক্যান্সার সেলের আক্রমণমূলক কার্যকলাপ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

জাফরান
জাফরানে রয়েছে ক্যান্সার প্রতিরোধক এক কার্যকরি উপাদান, ক্রোসেটিন (প্রাকৃতিক ক্যারোটিনয়েড ডাইকার্বোক্সিলিক অ্যাসিড)। এটি শুধু যে ক্যান্সারের বৃদ্ধি রোধ করে তা নয়, ক্রোসেটিন ক্যান্সারাস টিউমারের আকার কমাতেও সাহায্য করে ম্যাজিকের মতোই।

জিরা
হ্যাঁ, এই খুদ্র মশলাটিও ক্যান্সারের মতো ক্ষতিকারক রোগের সঙ্গে লড়াইতে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ জিরায় রয়েছে থাইমোকুইনান নামক এক যৌগ যা প্রস্টেট ক্যান্সারের জন্যে দায়ী সেলের শরীরে ছড়িয়ে পড়া আটকায়।

দারুচিনি
সারা দিনে মাত্র এক চা-চামচ দারুচিনিগুঁড়ো। আর ক্যান্সারের মারণ থাবা থেকে আপনি থাকবেন শত হাত দূরে। সকালের চায়েই হোক অথবা স্যালাডে সিজনিং হিসেবে, আপনার প্রতিদিনের ডায়েটে রাখুন আয়রন ও ক্যালশিয়াম সমৃদ্ধ দারুচিনি।

অরিগ্যানো
এই যোদ্ধা আমাদের প্রতিদিনের রান্নায় ব্যবহৃত না হলেও এখন যে কোনও ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে পাওয়া যায়। অরিগ্যানোয় রয়েছে অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল কম্পাউন্ড। এতে মজুদ ফাইটো কেমিক্যাল, কারসেটিন শরীরে ম্যালিগনেন্ট ক্যান্সার সেল তৈরি হওয়া রোধ করে।

নাগা মরিচ
শরীরে ক্যান্সার সেলের ছড়িয়ে পড়া রোধ তো করেই। তাছাড়া, লিউকেমিয়ার টিউমার সেলের আকার কম করতেও সাহায্য করে নাগা মরিচ। তবে রান্নায় খুব বেশি পরিমাণে নাগা মরিচ না খাওয়াই ভাল। অতিরিক্ত ঝাল হওয়ার ফলে শরীর গরম হয়ে যেতে পারে।

আদা
প্রতিদিনের রান্নায় কোনো না কোনো খাবারে আদা থাকবেই। কিন্তু জানেন কি শুধু খাবারে স্বাদ বাড়ানোর জন্যেই নয়, ক্যান্সার থেকে বাঁচার জন্যেও আদা সমান উপকারী? রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর পাশাপাশি মেটাবলিজিম বাড়ায় এবং ক্যান্সার সেল ধ্বংস করতেও সমান উপযোগী। সূত্র: টাইমস অব ইনডিয়া

নিউজ ইভেন্ট ২৪ ডটকম/২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩/১৫:৪৫/পিএম

Link